গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেই নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
তিনি বলেছেন, নতুন আইনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হবে না এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কণ্ঠ রোধের সুযোগ রাখা হবে না।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের অংশীজনদের মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে আয়োজিত পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘আমরা চাই না, এমন কোনো আইন হোক, যে আইনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হয়। কারও কণ্ঠ দমনের চেষ্টা হবে না।’
তিনি বলেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইন ব্যবহারের মাধ্যমে কিছু সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। তাই নতুন আইন তৈরির ক্ষেত্রে সরকার সতর্ক রয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, একটি আইন এক দিনের জন্য তৈরি হয় না। তাই আইনের কোনো শব্দ বা বিধান যেন ভবিষ্যতে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না করে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনের অন্যতম লক্ষ্য হবে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং নৈতিকতার অবক্ষয় রোধ করা।
সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট, অপমানজনক ভাষার ব্যবহার ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তবে এসব নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে যেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, একটি ভালো আইন প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
সভায় টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, মেটা, টিকটক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সাইবার প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, এসব প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তির চরিত্রহনন, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক ক্ষতির মতো ঘটনা ঘটছে। তাই ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, নারীর প্রতি সহিংসতা, অশ্লীল ভাষার ব্যবহার ও বুলিং রোধে একটি যুগোপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন প্রয়োজন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, তথ্য ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করাই কমিটির লক্ষ্য।





