গ্যাসের দাম কমানো না হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলের ‘হিডেন চার্জ’ বা অতিরিক্ত ফি বন্ধ করতে হবে। এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরা রাজউক কলেজের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, গ্যাস সংকট নিরসন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর উত্তরা অঞ্চল এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, জুলাই আন্দোলনে উত্তরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তার ভাষ্য, ওই আন্দোলন হঠাৎ করে শুরু হয়নি; ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এর পটভূমি তৈরি হয়েছিল। সে সময় জামায়াতে ইসলামী শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীকে অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। জুলাই আন্দোলনের সময় শিশুদের ওপরও সহিংসতা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিএনপি সরকারের উদ্দেশে জামায়াতের এই নেতা বলেন, জুলাই সনদ কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক পরিণতি দেখা দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ বিলের অতিরিক্ত চার্জের সমালোচনা করে সেলিম উদ্দিন বলেন, দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করা গেলে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। রাজধানীর মানুষের দুর্ভোগ কমাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কমানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
সরকার জুলাইয়ের চেতনার কথা বললেও তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন সেলিম উদ্দিন।
আগামী ৫ আগস্ট, অর্থাৎ ‘৩৬ জুলাই’ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতার বিজয় দিবস’ উপলক্ষে সকাল ১০টায় সবাইকে পল্টনে সমবেত হতে হবে।
সমাবেশ শেষে উত্তরা রাজউক কলেজের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জসীমউদ্দীন সড়কে গিয়ে শেষ হয়।
কর্মসূচিতে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, উত্তরা পূর্ব অঞ্চলের পরিচালক জামাল উদ্দিন, সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম, অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, উত্তরা মডেল থানা আমির ইব্রাহীম খলীল, উত্তরা পশ্চিমের আমির মাজহারুল ইসলাম, উত্তরা পূর্বের আমির মাহফুজুর রহমান, দক্ষিণখান পশ্চিমের আমির আবু সাঈদ শাহনেওয়াজ, দক্ষিণখান উত্তরের আমির মোস্তাকিম আলম, উত্তরখান পূর্বের আমির ইসরাঈল হোসেনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





