চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রাহাজানি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্যও বড় হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমইএ) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহরিয়ার।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে জড়াতে চান না। তারা শুধু ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও দেশের অর্থনীতি নিয়ে কাজ করতে চান। রাজনীতি নিয়ে কথা বলার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের, ব্যবসায়ীদের নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিপিএমইএ বোর্ড নেতাদের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মোহাম্মদ শাহরিয়ার। রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টোরোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিপিএমইএ সভাপতি জানান, বিরোধীদলীয় নেতার আমন্ত্রণে সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ বোর্ড, সাবেক সভাপতিবৃন্দ ও উপদেষ্টারা মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। বৈঠকে খাতটির বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সমস্যাগুলো শুনেছেন এবং চিহ্নিত বিষয়গুলো নিয়ে জাতীয় সংসদ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। এ জন্য লিখিত প্রস্তাবনাও চাওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ খাত শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে নয়, ওষুধ, লেদার, টেরিটাওয়েলসহ বিভিন্ন খাতের সঙ্গেও যুক্ত।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে শুধু পেপার প্যাকেজিংয়ের চাহিদা প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ এ খাতে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মতো রপ্তানি করতে পারছে। পাশাপাশি সামগ্রিক প্যাকেজিং ও ট্রিমস অ্যাক্সেসরিজের প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার ধরার সুযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বিশ্ববাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিপিএমইএ সভাপতি বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় নেতাকে দুটি বিষয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী ৬ থেকে ৯ জানুয়ারি বসুন্ধরা আইসিসিবিতে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ার পরিদর্শন এবং বিশ্বমানের ‘লিড সার্টিফাইড’ কারখানা পরিদর্শন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারকে ব্যবসায়ী সমাজ সহযোগিতা করে আসছে। সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস হওয়ায় তাদের সময় দেওয়া প্রয়োজন এবং তারা সহযোগিতা অব্যাহত রাখছেন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা জানতে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি জানান, ব্যবসায়ী নেতারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। এসব বিষয়ে ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন জামায়াত আমির।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা এবং ইসিবি চত্বরে হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রমাণ। তিনি বলেন, মব তৈরি ও সহিংস আচরণ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর কাঙ্ক্ষিত মানবিক বাংলাদেশের জন্য হুমকি।
তিনি এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের বীরদের এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানান তিনি।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা‘ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মোবারক হোসাইন, মতিউর রহমান আকন্দ ও ড. রেজাউল করিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।