নিরাপদ অভিবাসন, শ্রম আইন সংস্কার ও বৈধ উপায়ে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলারের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বৈধ উপায়ে কর্মী পাঠাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বৈধ অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে অভিবাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা ও সাংবাদিকদের নিয়ে শিগগিরই একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী জানান, অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। কয়েকটি এজেন্সির অফিস সিলগালা করা হয়েছে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আসে। সরকারের আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি জনশক্তি প্রেরণকারী এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান।
তিনি ইথিক্যাল মাইগ্রেশন, বৈধ অভিবাসন উৎসাহিত করা এবং উচ্চ ব্যয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমাতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে বৈধ উপায়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় ইইউ কাজ করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে ‘ইউরোপিয়ান ট্রেনিং ফাউন্ডেশন’ আনা এবং বিদেশফেরত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইনে ট্রেড ইউনিয়ন বা দল গঠনের স্বাধীনতা, ইপিজেড আইনের সঙ্গে সাধারণ শ্রম আইনের সামঞ্জস্য, শিশুশ্রম নির্মূল এবং নিয়মিত কারখানা পরিদর্শনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী জানান, রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। এ ছাড়া এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতালির সঙ্গে চলমান বৈধ অভিবাসন কার্যক্রমের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেইজ’ প্রকল্পের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
নিরাপদ অভিবাসন ও শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর বৈঠক
বাংলাদেশ২৪৭ নিউজ ডেস্ক
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
৩ সপ্তাহ আগে
শেয়ার করুন:

জাতীয়
বিষয়:প্রবাসী কল্যাণ
মতামত(0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন
সংবাদে মতামত প্রকাশ করতে অনুগ্রহ করে নিবন্ধন (Registration) অথবা লগইন করুন।




