আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আসন বা প্রার্থী সমঝোতায় না গিয়ে নিজস্ব কৌশলে মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির লক্ষ্য, স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও জনসমর্থনের বাস্তব চিত্র যাচাই করা।

জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সমন্বয় ও জোটগত কর্মসূচি থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল নিতে চাইছে জামায়াত। দলটির নেতারা বলছেন, দলীয় প্রতীক ও মনোনয়ন না থাকা, স্থানীয় পর্যায়ের নিজস্ব রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রার্থী বাছাইয়ের জটিলতার কারণে জোটগতভাবে নির্বাচন করা কঠিন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ টিবিএসকে বলেন, ‘১১ দলীয় জোট হয়েছিল জাতীয় নির্বাচনের জন্য। সমঝোতার ভিত্তিতে আমরা জাতীয় নির্বাচন করলাম। স্থানীয় নির্বাচন জোটগতভাবে করার সিদ্ধান্ত জোটের মধ্যে নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচন জোটগতভাবে করা কঠিন। কারণ এখানে কোনো দলীয় মনোনয়ন নাই, দলীয় প্রতীক নাই। আবার স্থানীয় অনেক ইস্যু থাকে। প্রার্থী বাছাই করার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা আছে। যার কারণে জোটগতভাবে চিন্তা করছি না আমরা।’

তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট নেতারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করতে পারবেন বলে জানান আযাদ।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, মাঠপর্যায়ের সংগঠন সক্রিয় করা এবং নির্বাচনি প্রস্তুতি নিয়ে জামায়াতের অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় সরকার। কোন স্তরের নির্বাচন দিয়ে এ প্রক্রিয়া শুরু হবে, সে সিদ্ধান্তও এখনো হয়নি।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বাজেটে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে মিত্রদের মধ্যে দূরত্ব

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত ও তার মিত্রদের মধ্যে প্রার্থী ও সমর্থনের প্রশ্নে মতপার্থক্যও সামনে আসছে। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে কয়েকটি দলের ভিন্ন পরিকল্পনা স্পষ্ট হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে মেয়র প্রার্থী করতে চায়। এ ক্ষেত্রে জোটসঙ্গীদের সমর্থনও প্রত্যাশা করছে দলটি।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমকে ইতোমধ্যে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলের মহানগর উত্তর শাখার আমির সেলিম উদ্দিনের নাম রয়েছে। একই পদে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী করতে চায় এনসিপি।

সেলিম উদ্দিন ও সাদিক কায়েম ইতোমধ্যে নির্বাচনি মাঠ গোছানোর কাজ শুরু করেছেন।

১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়েছে খেলাফত মজলিস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জোটটি যৌথভাবে ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে।

তবে গত ২৫ জুলাই জোট থেকে সরে দাঁড়ায় খেলাফত মজলিস। দলটি তখন জানায়, ১১ দলীয় ঐক্যের সব ধরনের কর্মসূচি থেকে তারা বিরত থাকবে। ভবিষ্যতে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজন হলে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা হবে বলেও জানানো হয়।

একটি দলীয় সূত্রের দাবি, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস বিকল্প নির্বাচনি বোঝাপড়ার চিন্তা করতে পারে। এ নিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

এ ছাড়া এনসিপিসহ সাতটি দল স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে আলাদা জোট বা সমঝোতায় যেতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।