মুক্তির দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়েছে ক্রিস্টোফার নোলান পরিচালিত ‘দ্য ওডিসি’। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির ৫৭ দিনের মধ্যেই ইউনিভার্সাল পিকচার্সের ১১৪ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের রেকর্ড দখল করেছে সিনেমাটি।

ইউনিভার্সাল পিকচার্সের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির ৫৭ দিন শেষে বিশ্বজুড়ে ‘দ্য ওডিসি’র মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৬৮ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকার বাজার থেকে এসেছে ৬০ কোটি ১২ লাখ ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় হয়েছে ১০৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

এর মাধ্যমে ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ইউনিভার্সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’-এর ১৬৭ কোটি ডলারের আয়ের রেকর্ড পেছনে ফেলেছে ‘দ্য ওডিসি’।

গ্রিক কবি হোমারের প্রায় তিন হাজার বছরের পুরোনো মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। মুক্তির পর থেকেই বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে নোলানের এই ছবি।

শুধু ইউনিভার্সাল পিকচার্সের রেকর্ডই নয়, আরও কয়েকটি বক্স অফিস রেকর্ডও নিজেদের করে নিয়েছে ‘দ্য ওডিসি’। ২০০৯ সালের পর কোনো সিকুয়েল বা পুনর্নির্মাণ নয়—এমন সিনেমা হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে একশ কোটি ডলারের বেশি আয় করা প্রথম চলচ্চিত্র এটি।

এ ছাড়া বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত শ্রেণির সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা এবং আইম্যাক্স প্রযুক্তিতে সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের রেকর্ডও গড়েছে ছবিটি।

‘দ্য ওডিসি’ নোলানের ক্যারিয়ারেরও সবচেয়ে সফল সিনেমা। এর আগে তাঁর সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র ছিল ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’, যা বিশ্বজুড়ে একশ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছিল।

ওয়ার্নার ব্রাদার্স ছেড়ে ইউনিভার্সাল পিকচার্সে যোগ দেওয়ার পর নোলানের জন্য এটি দ্বিতীয় বড় সাফল্য। এর আগে ২০২৩ সালে একই প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে মুক্তি পাওয়া তাঁর ‘ওপেনহাইমার’ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় করেছিল এবং সাতটি বিভাগে অস্কার জিতেছিল।

‘দ্য ওডিসি’র সাফল্যের ওপর ভর করে ২০২৬ সালে ইউনিভার্সাল পিকচার্সের বক্স অফিস আয় চারশ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির আরও কয়েকটি সিনেমাও সাফল্য পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যানিমেশনভিত্তিক ‘দ্য সুপার মারিও ব্রাদার্স মুভি ২’ এবং ‘মিনিয়নস অ্যান্ড মনস্টারস’।