বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান সমস্যায় থাকা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নগদে নতুন বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও সার্বিক অবস্থা যাচাই করতে ফরেনসিক অডিট পরিচালনার অনুমতি চেয়ে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি দিয়েছেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে পাঠানো ওই চিঠিতে নগদের বর্তমান অবস্থান ও সক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য অডিট পরিচালনার সুযোগ চাওয়া হয়। বিষয়টি মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, বিনিয়োগে সহায়তা করাকে তিনি নাগরিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি বহুজাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন তিনি এবং এসব প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগে নগদের ফরেনসিক অডিট করতে আগ্রহী।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, উদীয়মান প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বৈশ্বিক আর্থিক খাতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনায় আগ্রহ রয়েছে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পে কয়েকজন বিদেশি বিনিয়োগকারী আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।
আরমান আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকা নগদকে যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে নতুন মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তরের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানতে পেরেছেন। এ কারণে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা, পরিচালনাগত সক্ষমতা, ঝুঁকি, শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, নগদ নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব এলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তাব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অন্তর্বর্তী সরকার নগদকে আবার বেসরকারি খাতে ফিরিয়ে দিতে চাইলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নতুন সরকার। বর্তমানে নগদ সরকারের মালিকানাধীন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কেবল প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের আর্থিক সেবা হিসেবে যাত্রা শুরু করা নগদ এখনও বাংলাদেশ ব্যাংকের অস্থায়ী লাইসেন্সে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০২৪ সালের আগস্টে অনিয়মের অভিযোগে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত ফরেনসিক অডিটর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে আগের ব্যবস্থাপনার সময়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন