জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সাধারণ পরিষদকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এ পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন সাইপ্রাসের বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস।
প্রায় ৪০ বছর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে আবারও নির্বাচন করছে বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।
এরপর দীর্ঘ সময় এ পদে বাংলাদেশ আর কোনো নির্বাচন করেনি। প্রায় চার বছর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ।
শেষ মুহূর্তে ফিলিস্তিনও এ পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করায় বাংলাদেশ কিছুটা দোটানায় পড়ে বলে জানা যায়। কারণ বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে মুসলিম দেশগুলোর ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে এখন সাইপ্রাসের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি প্রতি বছর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের ভোটে নির্বাচিত হন। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি একটি করে ভোট দেয়। সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সভাপতি নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশ এ নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। সোমবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আশাবাদী। বাংলাদেশ অত্যন্ত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। এ নির্বাচনে আমরা অত্যন্ত ভালো অবস্থানে আছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতিসংঘে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ক্যারিয়ার রয়েছে। সুতরাং আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে বাংলাদেশ জয়ী হবে। আমি মনে করি, এটি বাংলাদেশের জন্য এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য নতুন অনেক দ্বার উন্মোচন করবে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত হবে।”
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন