গাইবান্ধার সাঘাটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী নিহত হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আশরাফ খন্দকার নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামে অভিযুক্ত মোকলেছুর রহমান মুকুল ও তার ভাই পলাশের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত পৌনে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।
বোনারপাড়া ফায়ার স্টেশন সূত্র রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অভিযুক্ত মুকুল ও পলাশ ওই গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি। আটক আশরাফ খন্দকার (৩৬) একই গ্রামের আকবর খন্দকারের ছেলে।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তিনি শিমুলতাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের মাওলানা হবিবার রহমানের ছেলে এবং রংপুরের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসার আল-কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
একই ঘটনায় আহত জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সাইফুল্লাহ বারী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এতে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন অংশ নেন। পরে বিক্ষুব্ধদের একাংশ অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা তোফাজ্জাল হোসেন বলেন, ২২ সদস্যের একটি দল আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে বাড়িঘরের প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রায় ১৫ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পবিত্র কুমার বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আশরাফ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গাইবান্ধা শহরে বিক্ষোভ করেছে জেলা ইসলামী ছাত্রশিবির। রাত ৯টার দিকে তারা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন। একই দাবিতে ঢাকাতেও বিক্ষোভ করেছে ছাত্রশিবির।
হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ। সংসদ অধিবেশন শেষে সংসদ চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোনারপাড়া বাজারের চারমাথা এলাকায় কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় সাইফুল্লাহ বারী গুরুতর আহত হন। একই সময় তার বন্ধু সালাউদ্দিনও ছুরিকাঘাতে আহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বজনেরা সাইফুল্লাহ বারীকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন