মিসরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর বিশ্বকাপে ইরানের ভ্রমণব্যবস্থা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন দলটির অধিনায়ক মেহদি তারেমি। তার অভিযোগ, টুর্নামেন্টে ইরান ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। এমনকি দলটিকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সিয়াটলে গ্রুপ ‘জি’-এর শেষ ম্যাচে মিসরের সঙ্গে ড্র করে ইরান। তিন পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি শেষ ৩২ নিশ্চিত করতে না পারায় এখন সেরা তৃতীয় দলের সমীকরণের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে আমির ঘালেনোয়ির দলকে।
ম্যাচে ইরানের বড় আক্ষেপের কেন্দ্রে ছিলেন তারেমি। শুরুতে তিনি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। শেষ দিকে তার হেড ক্রসবারে লাগে। যোগ করা সময়ে শোজা খলিলজাদেহর গোল ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় অফসাইডের কারণে বাতিল হলে জয়ের সুযোগ হারায় ইরান।
ম্যাচের পর তারেমি বলেন, “ফিফার এখানে সব সমস্যার সমাধান করার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে শুরু থেকেই তারা সেটি করতে পারেনি।”
ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রে হলেও দলটির ঘাঁটি রাখা হয়েছে মেক্সিকোর তিহুয়ানায়। ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে খেলোয়াড়দের বারবার মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করতে হয়েছে। সিয়াটলের ম্যাচের আগে এক দিনের পরিবর্তে দুই দিন আগে ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে তারেমির মতে, পেশাদার প্রতিযোগিতায় এমন ভ্রমণব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, “কীভাবে সম্ভব যে আমাদের সব সময় তিহুয়ানায় যেতে হবে? আমরা মেক্সিকোর মানুষ ও তিহুয়ানাকে ভালোবাসি। সেখানকার মানুষ খুব ভালো ও বিনয়ী। কিন্তু পেশাদার খেলোয়াড় এবং পেশাদার প্রতিযোগিতার জন্য এ ব্যবস্থা ঠিক নয়।”
ইরানের প্রতি সামগ্রিক আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারেমি। তিনি বলেন, “কে আমাদের সাহায্য করতে চায়? তারা যদি চায় আমরা বিদায় নিই, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু এটি ন্যায্য নয়।”
তারেমি জানান, প্রথম ম্যাচের পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইরানের ড্রেসিংরুমে গিয়ে কথা বলেছিলেন। তার ভাষ্য, ইনফান্তিনো বলেছিলেন এটি কেবল শুরু। তবে গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পথে থাকলেও ভ্রমণব্যবস্থার সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন ইরান অধিনায়ক।
ম্যাচটির আবহ রাজনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল ছিল। গ্যালারিতে কয়েকজন সমর্থক বিপ্লব-পূর্ব ইরানের পতাকা প্রদর্শন করেন। জাতীয় সংগীতের সময় দুয়ো শোনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের খবর আসে।
ইরানের অভিযোগের বিষয়ে ফিফা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
দলটির কোচ আমির ঘালেনোয়িও ভ্রমণ বিধিনিষেধ ও প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, এসব প্রতিবন্ধকতা খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, বিশ্রাম ও মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে।
মাঠের লড়াইয়ে মিসরকে হারাতে পারলে সরাসরি শেষ ৩২-এ ওঠার সুযোগ ছিল ইরানের। মাহমুদ সাবেরের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রামিন রেজায়েয়ান সমতা ফেরান। তবে পেনাল্টি মিস, ক্রসবারে বল লাগা এবং শেষ মুহূর্তের গোল বাতিল হওয়ায় ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
এখন নকআউট পর্বে জায়গা পেতে অন্য গ্রুপগুলোর ফলের অপেক্ষায় থাকতে হবে ইরানকে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন