শুক্রবার ছুটির দিন সকালে রাজধানীর উত্তরায় একটি বাসায় আগুন লেগে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ।
ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের রোড ১৮, বাড়ী নং ৩৪ ওই ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার খবর পান তারা।
ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সেখানে গিয়ে ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সকাল ১০টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়।
ফায়ার সার্ভিস বলছে,ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হয়েছেন। ১৩ জনকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে । একই পরিবারের তিনজন নিহত হলেন,স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী হারিজ আহমেদ (৫১),হারিজ আহমেদের ছেলে রাহাব (১৯),হারিজ আহমেদের ভাগ্নি (১৩)।
ঘটনার বিবরণে ১১ নং সেক্টর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি মোঃ ফিরোজ জামান জানান, ভবনের দ্বিতীয় তলায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো ভবন (৬ তলা পর্যন্ত) ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
ঘটনার সময় হারিজ আহমেদের পরিবার ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। আগুনের তাপ ও ধোঁয়ায় তাদের ঘুম ভাঙলেও তারা ঘর থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি। চারদিকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হওয়ায় তারা ভেতরেই আটকা পড়েন এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান।
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ১১ নং সেক্টর সোসাইটির সভাপতি মোঃ ফিরোজ জামান অভিযোগ করে বলেন, “ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাদের উদ্ধার কৌশলে ঘাটতি ছিল। তারা যদি দ্রুত বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করত,তবে হয়তো এই প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো। মূলত সক্ষমতার অভাবেই আমরা তিনটি প্রাণ হারালাম।
এদিকে, মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন