স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, উন্নয়ন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও পল্লীকেন্দ্রিক। শহর এগিয়ে গেলেও গ্রাম পিছিয়ে থাকলে প্রকৃত সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।
আজ সোমবার রাজধানীর সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিকের (সিরডাপ) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে এবারের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, প্রথমবারের মতো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা এ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রতিবছর ৬ জুলাই বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার উদ্যোগে সিরডাপ প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই প্রতিষ্ঠার স্মরণে দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশ বর্তমানে সিরডাপ গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে সিরডাপ আঞ্চলিক সংহতি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সদস্য দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ২১৫টি গবেষণা কর্মসূচি এবং ৩৫০টি সক্ষমতা উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। পাশাপাশি আট হাজারের বেশি সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও প্রকাশনার মাধ্যমে সিরডাপ বর্তমানে ১ লাখ ২০ হাজার অংশীজনের কাছে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে সংস্থাটি নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করছে।
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গ্রামীণ সমাজ জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর, খাদ্য নিরাপত্তা এবং যুব বেকারত্বের মতো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিরডাপ জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
তিনি জানান, আরও ৪০টি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ এবং প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে সিরডাপ তার আঞ্চলিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে।
মন্ত্রী বলেন, স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সিরডাপকে সহযোগিতা করাকে দায়িত্ব ও গৌরব-উভয় হিসেবেই বিবেচনা করে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান সরকার পল্লী উন্নয়নকে তার কর্মসূচির কেন্দ্রে স্থান দিয়েছে। দলের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষি সহায়তার অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখের বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আনসার-ভিডিপিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগিয়ে গ্রামগুলোকে প্রশাসন, অবকাঠামো ও জনসেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
মন্ত্রী জানান, দেশব্যাপী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে সেচব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্নআয়ের নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে মাসিক আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। এ ছাড়া ‘ফার্মার কার্ড’ বা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষি উপকরণ, ঋণ, বীমা ও বাজার সুবিধা পাবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গ্রামীণ সমাজ ও জনগণের জীবনমানের গুণগত পরিবর্তন আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বক্তব্যে তিনি সিরডাপের ৪৭ বছরের সেবামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে স্বাগত জানান।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন