বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামীর প্রজন্মের জন্য পারস্পরিক হিংসামুক্ত ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামী দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মঙ্গলবার গোপালগঞ্জ-১ আসন (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বৈষম্যহীন ও সহিংসতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি জানান, চব্বিশের আগস্টের ৫ তারিখের পর আমরা সব ধর্ম ও শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের আশ্বস্ত করেছি এবং সাহস জুগিয়েছি।
তিনি বলেন, এই দেশে সবাই সমান নাগরিক এবং সবার অধিকার সমান।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “১২ তারিখে দুইটা ভোট—একটা ‘হ্যাঁ’, একটা ‘না’। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, আর ‘না’ মানে গোলামী। ১২ তারিখ শক্ত হাতে প্রথম ভোটটা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষেই বসাতে হবে।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ধোঁকাবাজি, ব্যাংক ডাকাতি কিংবা শেয়ারবাজার লুটপাটের রাজনীতি আমরা করতে চাই না। আমাদের রাজনীতি দেশের মালিক হওয়ার জন্য নয়, দেশের সেবক হওয়ার জন্য।
তিনি আরও বলেন, দোষারোপ, তোষামদি, ধোঁকা, মিথ্যাবাদী ও ফ্যাসিবাদী কায়দার রাজনীতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে অতীতের দুঃখ-দুর্দশার রাজনীতির অবসান ঘটবে এবং নতুন রাজনীতির সূর্য উদিত হবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির।
সমাবেশে প্রতীকীভাবে প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে ঢাকায় ফেরার পথে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর বাসস্ট্যান্ডে আরেকটি পথসভায় বক্তব্য দেন তিনি।
সেখানে তিনি বলেন, অতীতে আমাদের সঙ্গে যা যা হয়েছে, আমরা দলের পক্ষ থেকে সব ক্ষমা করে দিয়েছি। আমরা আমাদের কথা রেখেছি।
জামায়াত আমিরের আগমনকে কেন্দ্র করে মুকসুদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন