রাঙ্গামাটিতে টানা বর্ষণের কারণে গত চার দিন ধরে বাঘাইছড়ির সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত কমে আসায় উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ায় প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অনেক মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।
তবে ভারী বর্ষণের কারণে বাঘাইহাট-মারিশ্যা সড়কের ‘তিন কিলো’ এলাকায় বড় একটি অংশ ধসে যাওয়ায় ৮ জুলাই থেকে বাঘাইছড়ির সঙ্গে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
সড়কের ধসে যাওয়া অংশের কারণে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার জানিয়েছেন, রাস্তা মাটি ভরাট করে দ্রুত চলাচলের উপযোগী করার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে যান চলাচলের জন্য সড়কটি খুলে দেওয়ার আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ধসে যাওয়া অংশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করা হবে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে পৌরসভা, সাজেক ও বঙ্গলতলীসহ বিভিন্ন এলাকার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৮৭টি পরিবারের ২ হাজার ৩৬৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এর মধ্যে সাজেকের বাঘাইহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ৫২০ জন আশ্রয় নেন।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান জানিয়েছেন, বৃষ্টি কমে আসায় বন্যা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষজন বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সড়ক যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
রাঙ্গামাটি প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাঙ্গামাটিতে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১২ দশমিক ৪ মিলিমিটার।
নতুন করে কোথাও পাহাড়ধসের ঘটনা না ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে সাময়িক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন