জুলাইযোদ্ধা ও গণঅভ্যুত্থানের শহীদ-আহতদের বিএনপির চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর দেওয়া চেক বাউন্স হয়েছে। অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় এক হাজার ২০০ পরিবারকে দেওয়া ছয় কোটি টাকার চেক ক্যাশ হচ্ছে না। ৫০ হাজার টাকা করে চেক নিয়ে ঘুরছে পরিবারগুলো। আসলাম চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান জেএএম থেকে দেওয়া চেকগুলো দুই দফা বাউন্স হয়েছে।
গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে 'জুলাই বীর সম্মাননা' অনুষ্ঠান করে প্রতিষ্ঠানটি চেক বিতরণ করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেএএম সংস্থার চেয়ারম্যান মেহরীন আনহার উজমা। তিনি আসলাম চৌধুরীর মেয়ে। একই অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ।
সাংবাদিক শরীফ রুবেল জানান, ব্যাংকে চেক জমা দিলে বাউন্স হয়েছে। আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ১৬ জানুয়ারি ব্যাংকে টাকা জমার নিশ্চয়তা দেন। কিন্তু ১৮ জানুয়ারি ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, অ্যাকাউন্টটিতে মাত্র ২০ হাজার টাকা রয়েছে।
এতে সম্মাননা পাওয়া সাংবাদিকরাও লজ্জিত হচ্ছেন। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু সেদিনও চেক বাউন্স হয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবে তিনি বলেছিলেন, অনেক জুলাইযোদ্ধাকে অনুদান দিয়েছি। ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে টাকা জমা হবে। ১১, ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি সবাই টাকা পেয়ে যাবে।
যদিও ১১ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ব্যাংক বন্ধ থাকবে নির্বাচনের কারণে। আসলাম চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা (মিডিয়া) কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি চেক পাস হয়েছে। বাকিগুলো আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির পরে করা হবে।
২৬০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের মামলায় গত আগস্টেও আসলাম চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী নাজনীন মাওলা চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। তাঁর পরিবারের হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যাংকঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন তাঁকে টাকা ফেরত দেওয়ার মৌখিক অনুরোধ করে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচন করার সুযোগ দিলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ফল স্থগিত থাকবে। ব্যাংকের ঋণ শোধ করতে না পারলেও আসলাম চৌধুরী ছয় কোটি ‘অনুদানের’ চেক দেন, যা ক্যাশ না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অনুদানপ্রাপ্তরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন