ইতালিতে ফ্যাসিস্ট ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মী কর্তৃক হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা, পানি-কোক-ডিম ছুড়ে মারা এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ করেছেন তিনি।
গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে (বাংলাদেশ সময়) বাঁধন তার ভাইয়ের ফ্যামিলির সঙ্গে পার্কে হাঁটতে গেলে তাকে হেনস্তা ও মারধরের এ ঘটনা ঘটে। এসময় এ অভিনেত্রীর ভাই ও পরিবারের অন্যান্য কয়েকজন সদস্য তার সঙ্গে ছিলেন। মারধরের সময় তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে উদযাপনও করতে দেখা গেছে দলটির পলাতক এ নেতাকর্মীদেরকে।
অভিনেত্রীর জানান, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাঁকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
বাঁধনের অভিযোগ করেন, তাঁকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বলা হয়। সেই সময়ের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রকাশের চেষ্টা করা হয় বলেও জানান তিনি।
রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে বর্তমানে ইতালির মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন বাঁধন। ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রদর্শনী উপলক্ষে তিনি ইতালি গেছেন। সোমবার রাতে ভাই ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বিস্তারিত তুলে ধরেন বাঁধন। পরে হামলা ও হেনস্তার কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি।
প্রকাশিত ভিডিওতে কয়েকজনকে বাঁধনের দিকে এগিয়ে যেতে, তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করতে এবং উত্তেজিতভাবে কথা বলতে দেখা যায়। তাঁদের কয়েকজনকে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে মন্তব্য করতেও শোনা যায়।
ফেসবুক লাইভে বাঁধন বলেন, “এখানে আমি আমার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি ভাই এসে আমাকে ফিজিক্যালি হ্যারাস করেছে। আমার শরীরে পানি, কোক ছুড়ে মেরেছে। এতে আমি একদম ভিজে যাই।”
তিনি আরও বলেন, “তারা আমার শরীরে হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে। আমার কানের পাশে আঘাত করেছে।”
বাঁধন জানান, ঘটনার সময় তাঁর ভাইয়ের শিশুসন্তানও সেখানে ছিল। প্রকাশিত একটি ভিডিওতে শিশুটির কথা উল্লেখ করে হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করতে শোনা যায়। জবাবে একজনকে বলতে শোনা যায়, “কিসের আবার বাচ্চা, ওকে জয় বাংলা বলতে হবে।”
ভিডিওতে কয়েকজনকে বাঁধনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতেও শোনা যায়।
বাঁধন বলেন, “তারা বলেছে, আমি জুলাই যোদ্ধা। ইয়েস, আই অ্যাম। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। বাঁধন বলেন, “আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।”
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বাঁধন বলেন, “একজন আজমেরী হক বাঁধনকে দমানো এত সহজ হবে না। আপনারা আজ সারা বিশ্বের মানুষকে দেখালেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী একজন অভিনেত্রীকে হেনস্তা করা হলো।”
হামলাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের এই অসংলগ্ন আচরণ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত ছিল, আপনারা তা করতে পারেননি। আপনারা ভেবেছেন, এভাবে করেই হয়তো পরবর্তীকালে নিজেদের জায়গাটা ফের সুগঠিত করতে পারবেন। সেটা আমার মনে হচ্ছে না।”
ভিডিও বার্তায় বাঁধন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ও ভেনিসে আছেন বলে তিনি জেনেছেন এবং তাঁর কাছে বিষয়টি পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান।
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন বাঁধন। ওই সময় আন্দোলনের পক্ষে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে কথা বলেছিলেন তিনি।





