ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাইয়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
গত ৩ অক্টোবর বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’তে যোগ দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আয়োজিত কোনো বিক্ষোভে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের দলের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চেন্নাইয়ে ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ নামে এ বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য বি মানিকাম ঠাকুর ও তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি (টিএনসিসি)। এতে ইন্ডিয়া জোটের শরিক সাতটি দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই চেন্নাইয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর চেন্নাইয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়। ওই বৈঠকের কয়েক দিন পরই কংগ্রেসের ডাকা বিক্ষোভে যোগ দেয় বিজয়ের দল।
কংগ্রেসের নেতৃত্বের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম সাউথ ফার্স্ট জানায়, বৈঠকে বিজেপির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতের বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোচনা, প্রচার ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিজয় এবং তার দলকে আমন্ত্রণ জানান রাহুল গান্ধী।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের শহরতলি নীলাঙ্করাইয়ে বিজয়ের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাহুল। এ সময় দুই নেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করেন।
সম্প্রতি ধারাপুরাম ও মাদুরান্তাকাম উপনির্বাচনে টিভিকের বিজয়ের জন্য তাকে অভিনন্দন জানান কংগ্রেস নেতা। তামিলনাড়ুতে ‘সেক্যুলার সোশ্যাল জাস্টিস ভিক্টরি অ্যালায়েন্স’ গঠনের পর এটি ছিল দুই নেতার প্রথম বৈঠক।
এদিকে চেন্নাইয়ের বিক্ষোভ সমাবেশে বিরোধী দলের নেতারা অভিযোগ করেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, বাদ পড়া ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশ মুসলিম, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, শুধু তামিলনাড়ুতেই ৯৭ লাখের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বক্তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের অধীনে পরিচালিত এ প্রক্রিয়া ভারতের সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) রাজনৈতিক সুবিধা দিতেই ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কারসাজি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতারা পুরো প্রক্রিয়াকে ‘গণতান্ত্রিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করেন।
ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের মধ্যে নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ এবং ভুলবশত বাদ পড়া ভোটারদের পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভে যোগ দিল বিজয়ের দল
বাংলাদেশ২৪৭ নিউজ ডেস্ক
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
২ দিন আগে
শেয়ার করুন:

আন্তর্জাতিক
বিষয়:থালাপতি বিজয়
মতামত(0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন
সংবাদে মতামত প্রকাশ করতে অনুগ্রহ করে নিবন্ধন (Registration) অথবা লগইন করুন।




