চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য পেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ, যা আগে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নামে পরিচিত ছিল, ‘কনসেশন’ বা পরিচালনার অধিকার সংক্রান্ত এ চুক্তির আয়োজন করেছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইসা করিমসহ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে আগামী ১৫ বছর এনসিটি পরিচালনা করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। তবে প্রতিষ্ঠানটি মোট কত বিনিয়োগ করবে, কী ধরনের নতুন যন্ত্রপাতি যুক্ত হবে, প্রতি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বিপরীতে চট্টগ্রাম বন্দর কত ফি পাবে এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সাইফ পাওয়ারটেকের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এ বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়। এ কারণে জাতীয় অর্থনীতিতে বন্দরটির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) একটি মৌলিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দক্ষ ও কার্যকরভাবে বন্দর ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনীয় সেবা ও সুবিধা দেওয়াই এর প্রধান উদ্দেশ্য।
সামুদ্রিক বাণিজ্যে কনটেইনার পরিবহনের প্রবণতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ৬৫ একর জমির ওপর ৭৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার মিটার দীর্ঘ বার্থ ও ব্যাকআপ সুবিধাসহ এনসিটি নির্মাণ করা হয়। ২০০৭ সালের মে মাস থেকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে জাহাজ চলাচল শুরু হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০০৭ সালে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির (ওটিএম) মাধ্যমে বেসরকারীকরণের নীতি গ্রহণ করে এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য মেসার্স সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডকে দায়িত্ব দেয়।
সাইফ পাওয়ারটেকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এনসিটি টার্মিনালে ৪ হাজার ৩৪৩টি জাহাজ এবং ৭০ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল করেছে। একই সময়ে চট্টগ্রামের পাঙ্গাওন টার্মিনালে ৭৫৪টি জাহাজ এবং ১ লাখ টিইইউ হ্যান্ডেল করেছে।
এনসিটির ব্যাকআপ অপারেশনের জন্য ২ লাখ ৯২ হাজার ২৮৭ বর্গমিটারের কনটেইনার স্টোরেজ ইয়ার্ড রয়েছে। সেখানে ফ্রোজেন কনটেইনারের জন্য ৭০০টি রিফার প্লাগের সুবিধা আছে।
চার দিনের ডওয়েল টাইম হ্যান্ডলিং হিসাব অনুযায়ী, ইয়ার্ডটির মোট কনটেইনার ধারণক্ষমতা বছরে ১১ লাখ ৯৮ হাজার ২৯৫ টিইইউ।
ব্যাকআপ অপারেশন পরিচালনায় বর্তমানে ২৩টি রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি (আরটিজি), ১২টি স্ট্র্যাডেল ক্যারিয়ার (এসসি) এবং ১৫টি ফর্ক লিফট (এফএলটি) রয়েছে।





