জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে একটি সরকারকে ভোট দেয়, তা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা। স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিনিধি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত তার দায় সরকারের ওপরই পড়ে।

সরকারি কর্মকর্তা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা চাকরিতে প্রবেশের পর প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর নিশ্চিতভাবে কর্মজীবন চালিয়ে যেতে পারেন। অন্যদিকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ মাত্র পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষে আবারও জনগণের সামনে গিয়ে কাজের প্রমাণ দিতে হয় এবং পুনরায় নির্বাচিত হতে হয়। এ কারণে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ভোগান্তির প্রসঙ্গ তুলে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, অনেক সাধারণ ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষ জন্ম নিবন্ধন সনদ পেতে ইউনিয়ন পরিষদে দিনের পর দিন ঘুরেও সেবা পান না। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, তাই জনগণের সুবিধা-অসুবিধা দেখাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজের পদ্ধতি ভিন্ন হলেও মূল লক্ষ্য একই—জনগণের সেবা করা। নির্বাচিত সরকারের কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশা থাকে। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের হাতে থাকা ক্ষমতা জনগণের সেবায় প্রয়োগ করতে হবে। মানুষের সেবা বাধাগ্রস্ত করার জন্য নয়, বরং তাদের প্রয়োজন পূরণ ও অধিকার নিশ্চিত করতেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার হওয়া উচিত।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থার তথ্যগত অসঙ্গতি তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রম জাতীয় প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দেশের প্রকৃত জনসংখ্যা ও নিবন্ধন তথ্যভান্ডারের মধ্যে বড় ধরনের অমিল রয়েছে। প্রায় ১৯ কোটি মানুষের দেশে নিবন্ধন ডাটাবেজে এর চেয়ে অনেক বেশি মানুষের তথ্য থাকা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ ধরনের অসঙ্গতি দূর করে নিবন্ধন ব্যবস্থাকে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, শুধু কম্পিউটার বা প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই মানুষের সেবা নিশ্চিত হবে না। প্রযুক্তি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি সাধারণ জন্মসনদ সংগ্রহ করতে কোনো নাগরিককে যেন বারবার ইউনিয়ন পরিষদে যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশে নেওয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান রয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশন ঢাকার হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।