ন্যায্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, বহুপাক্ষিকতা জোরদার এবং বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ইরান ও চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

ইরানের একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও দুই দেশের নেতৃত্বের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার ভিত্তিতে তেহরান ও বেইজিংয়ের কৌশলগত অংশীদারত্ব নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। তার মতে, দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও সম্ভাবনাময় ও গতিশীল।

ইরান ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে লেখা নিবন্ধে চীনকে ইরানের ‘দুর্দিনের বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন আরাগচি। তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় দুই দেশের সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার প্রতি তেহরান ও বেইজিংয়ের অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও তেহরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের মধ্যেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান-চীন সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত হয়েছে। চীনকে ইরানের প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার উল্লেখ করে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ব্রিকস ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বেইজিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

আরাগচি অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও নৈতিক নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় শান্তিপ্রিয় দেশগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তার মতে, এসসিও ও ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্ম বৈশ্বিক ক্ষমতায় একচেটিয়া আধিপত্য কমিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় আরও ন্যায্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আরাগচি জানান, এসব বহুপাক্ষিক কাঠামোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে চীনসহ সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ইরান প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ইরান ও চীনের সহযোগিতা শুধু দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এ সম্পর্ক ন্যায়ভিত্তিক বহুপাক্ষিকতা, টেকসই শান্তি এবং উদীয়মান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার একটি মডেল হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: প্রেস টিভি