স্মার্টফোন ও ইমেইল ছাড়া বর্তমান সময়ে দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করা অনেকের কাছেই প্রায় অসম্ভব। তবে বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান জানিয়েছেন, তার নিজস্ব কোনো স্মার্টফোন বা ইমেইল অ্যাকাউন্ট নেই।

প্রযুক্তির আসক্তি ও মনোযোগে ব্যাঘাত এড়াতে তিনি সাধারণ একটি ফ্লিপ ফোন বা ‘ডাম্ব ফোন’ ব্যবহার করেন। নোলানের ভাষ্য, স্মার্টফোন ব্যবহার করলে তিনি এতে অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়তে পারেন এবং সৃজনশীল চিন্তার জন্য প্রয়োজনীয় সময় হারিয়ে ফেলতে পারেন।

সম্প্রতি জনপ্রিয় টক শো ‘দ্য টুনাইট শো উইথ জিমি ফ্যালন’-এ অতিথি হয়ে নিজের প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে রাখার অভ্যাস নিয়ে কথা বলেন নোলান। অনুষ্ঠানটির একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপক জিমি ফ্যালন জানতে চান, নোলানের সিনেমার সেটে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি নেই এবং তার নিজেরও স্মার্টফোন ও ইমেইল ঠিকানা নেই—এ তথ্য সত্য কি না। জবাবে নোলান জানান, বিষয়টি সত্য।

ফ্যালন প্রশ্ন করেন, ইমেইল বা টেক্সট বার্তা ব্যবহার না করে বড় বাজেটের চলচ্চিত্রের কাজ কীভাবে পরিচালনা করেন তিনি। নোলান বলেন, তার চারপাশে সহায়তা করার মতো মানুষ রয়েছেন। সহকর্মীরা প্রয়োজনীয় তথ্য তার কাছে পৌঁছে দেন। ফলে ইমেইল ব্যবহার না করলেও কাজের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে তার সমস্যা হয় না।

স্মার্টফোন ব্যবহারের আগ্রহ কখনো তৈরি হয় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নোলান বলেন, ভ্রমণ বা বাইরে যাওয়ার সময় তিনি সাধারণ একটি ফ্লিপ ফোন সঙ্গে রাখেন। এই ব্যবস্থাই তার জন্য যথেষ্ট কার্যকর।

নোলানের মতে, স্মার্টফোন থাকলে তিনি সহজেই এতে আসক্ত হয়ে পড়তেন। এতে এমন অনেক সময় নষ্ট হতো, যা তিনি সাধারণত জানালার বাইরে তাকিয়ে নতুন চলচ্চিত্রের ধারণা নিয়ে ভাবতে ব্যয় করেন।

অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড, গোল্ডেন গ্লোব ও ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডজয়ী নোলান চলচ্চিত্র নির্মাণে নিজস্ব কর্মপদ্ধতির জন্য পরিচিত। সিনেমার সেটেও তিনি প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত রেখে মনোযোগ ও সৃজনশীল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করেন।

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অ্যাকশন-ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’। প্রাচীন গ্রিক কবি হোমারের মহাকাব্য ‘ওডিসি’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন, টম হল্যান্ড, অ্যান হ্যাথাওয়ে, রবার্ট প্যাটিনসন, লুপিটা নিয়ংও, সামান্থা মর্টন, জেনডায়া ও চার্লিজ থেরন।