সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সংসদে আগের সরকারের আমলের মতো বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
রোববার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশের জবাবে মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা টাকা লুণ্ঠন করেছে, মন্ত্রী তাদের দেওয়া বক্তব্যই তুলে ধরেছেন। এর প্রতিবাদও জানান তিনি।
এর আগে মনিরুল হক চৌধুরী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-নোয়াখালী সংযোগস্থলে অবৈধ ব্যারিকেড স্থাপন, টমছম ব্রিজসহ সাতটি স্থানে আন্ডারপাস এবং সার্ভিস লেন না থাকায় এলাকাটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে বলে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বাজেট না বাড়িয়ে ভূমি অধিগ্রহণের অংশ কমিয়ে সেখানে পূর্তকাজ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পদুয়া বাজারের ইউলুপকে ইন্টারসেকশনের আওতায় আরও দুটি আন্ডারপাসসহ মোট পাঁচটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। এতে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, এ বক্তব্যে তিনি সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন। তিনি বলেন , আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেভাবে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, মন্ত্রীও প্রায় একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছালেও অনুমোদিত আন্ডারপাস ও ওভারপাস কেন হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে ওই এলাকায় বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। মন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাসকে ‘বারবার শোনা একই কথা’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরে জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি আগে থেকেই চলমান ছিল। বর্তমান সরকার কেবল নকশা সম্প্রসারণ ও বাজেট সমন্বয়ের মাধ্যমে কিছু সংশোধন করতে পারছে। ১০ লেন প্রকল্পের আওতায় পদুয়া বাজার এলাকার দুর্ঘটনা, যান চলাচলের শৃঙ্খলা এবং ইন্টারসেকশন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিষয়গুলো নতুন পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, আগের সরকারের আমলের প্রকল্পে যতটুকু সংশোধন সম্ভব, সরকার তা করছে। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পর সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিকভাবে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় স্পিকার জানতে চান, এ পদক্ষেপে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের উত্থাপিত সমস্যার সমাধান হবে কি না। জবাবে মন্ত্রী বলেন, আংশিক সমাধান হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন