ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করতে বাড়ি ফিরতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঘরমুখী মানুষ। রাজধানী ঢাকা থেকে এক কোটি ২৫ লাখের বেশি মানুষ তাদের গন্তব্যে ফিরবেন, এবং এসব যাত্রীদের চাপ সামলাতে প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সড়ক ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ঈদযাত্রায় ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৪২ হাজার যাত্রী বহন করা হবে।
শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ট্রেনে এবারের ঈদযাত্রার প্রথম দিনে কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলে অতিরিক্ত কোচ ও বিশেষ ট্রেন যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১২৪টি অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হয়েছে। মিটারগেজ লাইনে আরও ১৪টি কোচ এবং ব্রডগেজ লাইনে প্রায় পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ হাজার থেকে ৪২ হাজার যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
এবার ঈদুল ফিতরের জন্য সরকারি ছুটি ১৭ মার্চ থেকে শুরু হবে এবং এটি টানা সাত দিন চলবে। যদিও ১৩ মার্চ থেকে ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হয়ে গেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ৩ মার্চ থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করে এবং ২০ মার্চ পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রতিদিন ৩৬ হাজার টিকিটের শতভাগ বিক্রি হয় অনলাইনে। তবে প্রতিদিন এই টিকিটগুলোর জন্য প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ অনলাইনে চেষ্টা করেন।
রেলমন্ত্রী আরও জানান, "৩ মার্চ থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হলে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচণ্ড চাপ দেখা যায়। প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিট কেনার চেষ্টা করেন, কিন্তু আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী ৩৬ হাজার টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়।" তিনি আরও বলেন, টিকিট বুকিংয়ের পর পেমেন্টের জন্য ৫ থেকে ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়, ফলে অনেক সময় কিছু যাত্রী অপেক্ষা করতে হয়। তবে সবশেষে যেসব যাত্রী টিকিট কেনার চেষ্টা করেছেন, তারা সবাই ন্যায্যভাবে টিকিট পেয়েছেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে অনেক যাত্রী ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন। এই প্রবণতা বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, বিপুল যাত্রীদের চাপের কারণে দু-একজন ছাদে উঠতে পারেন। তিনি বলেছেন, "শতভাগ নিশ্চিত করা কঠিন হলেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে কেউ ছাদে উঠতে না পারে।"
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন