আমদানি করা কয়েকটি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে জনগণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় জ্বালানি তেল বিতরণে রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
রোববার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ লাইনে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা মোকাবিলায় সরকার কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরই মধ্যে আমদানি করা কয়েকটি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৫ মার্চ থেকে সব বিতরণ পয়েন্টে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোথাও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গাফিলতি বা দায়িত্বহীনতা দেখা গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিতরণব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু পক্ষ এবং ভোক্তা পর্যায়েও দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ছিল, যার ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেউ যেন অসাধু উপায়ে জ্বালানি তেল মজুত করে বাড়তি লাভের চেষ্টা না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বিভিন্ন দেশে দাম বাড়লেও বাংলাদেশে এখনো তা বাড়ানো হয়নি। জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনায় রেখে সরকার এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে। দেশের অর্থনীতি যত দিন এই চাপ বহন করতে পারবে, তত দিন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।
এ সময় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসন সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন