বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসনে নিরপেক্ষতার বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনে নিরপেক্ষতা এবং দক্ষতা না থাকলে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা, লুটপাট ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, যা বিদেশি বা আধিপত্যবাদী শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অডিটোরিয়ামে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, "জাতীয় স্বার্থে ঐক্য ধরে রাখতে পারলে কোনো শক্তিই বাংলাদেশকে গ্রাস করতে পারবে না।" রিজভী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কেবল নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা।
রিজভী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে আরও বলেন, "এটি শুধু ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল বাংলাদেশের মানুষের যুদ্ধ। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ইপিআরসহ সর্বস্তরের মানুষ এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।"
তিনি অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। "স্বাধীনতার সব অবদান একটি পরিবার বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা জাতির আত্মাকে কলুষিত করেছে," বলেন তিনি।
তিনি প্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন, এবং বলেছিলেন, "যদি ডিসি আমাদের লোক না হয় বা বিভাগীয় কমিশনার কোন রাজনৈতিক দলের হয়, তাহলে বিভাজন চরমে পৌঁছাবে এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের অধঃপতন হবে। রাষ্ট্রে সুশাসন না থাকলে বিশৃঙ্খলা বাড়ে, জনগণের অর্থ লুটপাট হয়, এবং তা বিদেশে পাচার হয়, যা আন্তর্জাতিক শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি করে।"
তিনি জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে এক জায়গায় দাঁড়াতে হবে।"
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন