ইরানের কৌশলগত খারগ দ্বীপে মঙ্গলবার একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এরপর রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দ্বীপটিতে অতিরিক্ত হামলা চালিয়েছে এবং সেগুলো সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে; তেল অবকাঠামো এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্রগুলোর একটি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপটি দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে সেখানে যেকোনো সামরিক তৎপরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
ঘटनাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার রাত ৮টা (ওয়াশিংটন সময়) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। তা না হলে ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলার হুমকি দেন তিনি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ৩০ মার্চের এক পোস্টে ট্রাম্প খারগ দ্বীপ, তেলকূপ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনা ধ্বংসেরও হুমকি দিয়েছিলেন।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিনের বিভিন্ন সময়ে ইরানের ভেতরে সড়ক ও রেলসেতু, একটি বিমানবন্দর, একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় হামলার খবর আসে। একই প্রতিবেদনে খারগ দ্বীপে বিস্ফোরণের কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে বিস্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, খারগ দ্বীপে বড় ধরনের ক্ষতি হলে শুধু ইরানের অর্থনীতিই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। এরই মধ্যে হরমুজ সংকট ঘিরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন