জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (১০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, তদন্ত সংস্থা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে একদিন জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও সময় প্রয়োজন। পরে ট্রাইব্যুনাল ২১ জুলাই দিন ধার্য করেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, একটি মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাওয়া হয়েছিল। গত ৭ মে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং সেফ হোমে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়।
তিনি জানান, শনিবার (৯ মে) জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাকে আরও দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এক-এগারোর সময়কার ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, সে সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ কয়েকজনকে ‘ডি ফ্যাক্টো গভর্নমেন্ট’ বলা হতো। তার অভিযোগ, ওই সময়কার বিভিন্ন অমানবিক ঘটনা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের নেপথ্যে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ভূমিকা ছিল।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, এক-এগারোর সময়কার ঘটনা ছাড়াও শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তে এসব বিষয় উঠে আসছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিস্তারিত বলা যাবে। যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, সেসব মামলায় তাকে আসামি করা হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন