যশোরের শার্শায় নিখোঁজের এক মাস পাঁচ দিন পর রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে ইকরামুল কবির নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্ক, পারিবারিক কলহ ও আর্থিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
শনিবার রাতে শার্শা উপজেলার বসতপুর পূর্বপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইকরামুল কবির পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেতাই গ্রামের মুন্নী বেগমের সঙ্গে ইকরামুলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে পারিবারিক কলহের পাশাপাশি আর্থিক বিরোধও তৈরি হয়। প্রায় এক মাস আগে পাওনা টাকা আনতে মুন্নীর বাড়িতে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ হন ইকরামুল।
পরবর্তীতে বিষয়টি রহস্যজনক মনে হলে তদন্তে নামে বাগআঁচড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে মুন্নী, কাকলী ও ফজু মোড়লকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বাড়ির রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে মাটিচাপা অবস্থায় ইকরামুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে এবং হত্যার পর মরদেহ গোপন করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে পরকীয়া সম্পর্ক ও আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন