লেবাননে ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) এসব হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এতে লেবাননে মোট নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৫৮৬ জন ছাড়িয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) বরাতে জানা গেছে, শুক্রবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন সিভিল ডিফেন্স সদস্যও রয়েছেন।
এনএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, টাইর জেলার তাওরা শহরে পৃথক এক হামলায় পাঁচজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া এক কিশোরীকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।
এ ছাড়া দক্ষিণ লেবাননের মারজাইউন, হাসবাইয়া, বিনত জবেইল, নাবাতিয়াহ, সাইদন ও জেজিন এলাকায় একাধিক ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এদিকে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে আরেক দফা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৪ ও ১৫ মে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে এটি দুই পক্ষের মধ্যে তৃতীয় বৈঠক। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। পরে তা ১৭ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিকবার তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথবাহিনী। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননেও হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর ২ মার্চ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে হিজবুল্লাহ। এতে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এদিকে ইরান যুদ্ধের দুই মাস পার হলেও এখনও যুদ্ধ বন্ধে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি ওয়াশিংটন ও তেহরান। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট প্রশমনে তেহরানের কাছ থেকে প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার বলেন, একটি শান্তি চুক্তি হওয়া সম্ভব। তবে তার মতে, দুই সরকারের সরাসরি বিরোধ নয়, বরং হিজবুল্লাহই এখন প্রধান বাধা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন