এক কোটি ২৫ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের দুই যুগ আগের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২২ জুন মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিচার শুরু হওয়া অপর দুই আসামি হলেন মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম ও মোশাররফ হোসেন। তিন আসামির মধ্যে মোশাররফ হোসেন জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দেন। তোফায়েল আহমেদসহ অপর দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
চার্জ গঠন ও পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউটর মো. ইশতিয়াক হোসেন।
এদিন প্রসিকিউটর ইশতিয়াক জানান, আসামি তোফায়েল আহমেদসহ দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে শুনানি হয়নি।
এর আগে গত ৫ মে তোফায়েল আহমেদের অসুস্থতার কথা জানিয়ে তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতে বলেন, তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।
আইনজীবী আদালতে আরও বলেন, তোফায়েল আহমেদ শারীরিক ও মানসিকভাবে মামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অক্ষম। তার মানসিক অবস্থা পরীক্ষার আদেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়। তবে সেদিন আদালত এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপন করার উদ্দেশ্যে সহযোগীদের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন করেন।
এজাহারে দাবি করা হয়, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় মামলার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন