পাহাড়ি উজানের ঢল ও মৌসুমি ভারি বৃষ্টিপাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের বিভিন্ন হাওর অঞ্চলে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার বিঘা জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে উপজেলার প্রায় আড়াই হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফসলহানির ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা পরিদর্শন করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
শনিবার (৯ মে) দিনব্যাপী স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি উপজেলার মেদির হাওর ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দুর্দশার খোঁজখবর নেন এবং সান্ত্বনা দেন। এ সময় অনেক কৃষক জানান, বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এসময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে চেক ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সরকার তাদের সহযোগিতা করবে বলে জানান মন্ত্রী।
কৃষকদের উদ্দেশে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, ‘আমি কৃষকের পুত, আমি কৃষকের মনের কষ্ট বুঝি। দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ কৃষক। আমি নিজেও একজন কৃষক। আমার ধান এভাবে পচলে আমিও বুঝতাম কত কষ্ট। ধানগুলো এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে কৃষকের অনেক কষ্ট হয়েছে।’
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মূলনীতি হলো কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং করে কৃষকদের কাছ থেকে সরকার ধান নেবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যায় এমন ধানের জাত উদ্ভাবনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে হাওরে চাষযোগ্য ধানের জাত দ্রুত সময়ের মধ্যে আনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগের কথাও বলেন।
পরিদর্শন শেষে বিকাল ৪টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নিহত কৃষকের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চেক হস্তান্তর করেন মন্ত্রী।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নাসিরনগর হাওরে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। এর মধ্যে পানির নিচে পাকা ও আধাপাকা ৩০৫ হেক্টর ধানি জমি তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ৩২০ হেক্টর জমির কাটা ধান বৃষ্টির কারণে পচে নষ্ট হয়েছে। এতে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি টাকা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন