গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্রের পক্ষে ভূমিকা রাখা বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সরকারি দলের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান। একই সঙ্গে নির্যাতন ও কারাবাসে ক্ষতিগ্রস্ত রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে পৃথক কর্মসূচি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন করা, নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলা অনেক ব্যক্তি এখনো অবহেলিত রয়েছেন। তাদের অবদান স্মরণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিবৃতি দিয়েছেন, টেলিভিশন টকশো ও সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। তাদের আলাদা করে না দেখে সরকারের কাছাকাছি নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
হুইপ নিজান বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে অসংখ্য নেতাকর্মী কারাবাস, নির্যাতন ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তাদের জন্য পৃথক প্রকল্প বা পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে জুলাইয়ের গণ-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন আরও অর্থবহ হবে।
তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতি না করার বার্তা দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিশোধের কারণে কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সততা, ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে সরকার বা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তি বাংলাদেশকে দুর্বল করতে পারবে না।
বর্তমান সংসদের অনেক সদস্য অতীতে মৃত্যুদণ্ড বা দীর্ঘ কারাবাসের মুখোমুখি হয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সংসদে উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
নিজ নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১৪ মাস ধরে দলের ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে কাজ করেছেন এবং জনগণের সমর্থন নিয়েই সংসদে এসেছেন।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানবিক নেতৃত্ব, জাতীয় ঐক্য ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন