আগামী ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
শফিকুর রহমান বলেন, “গণভোট না মানলে এই সরকার অবৈধ হয়ে যায়—এটা সরকারকে বুঝতে হবে। গণভোট ব্যর্থ হলে এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। আগামী ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে ঢাকায় মহাসমাবেশ করব।”
বরিশাল অঞ্চলের যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভাঙ্গার পর থেকে সড়কের অবস্থা খারাপ এবং তা এখনো দুই লেনের। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার সড়কও বেহাল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “ভোলা এখনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। রেললাইন কবে হবে—এ বিষয়ে সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের বক্তব্য নেই কেন? এই অঞ্চলের মানুষকে এভাবে বঞ্চিত করা যাবে না।”
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, নির্বাচনের আগে সংশ্লিষ্ট দুটি দলই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। এরপরও রায় বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, “গণভোট বাস্তবায়ন নিয়ে পদে পদে মিথ্যা ও ধোঁকা দিচ্ছে সরকার। গণভোট নিয়ে টালবাহানা জনগণ সহ্য করবে না। ফ্যাসিবাদের জায়গা এ দেশে আর হবে না।”
সরকার স্বৈরশাসন ফিরিয়ে আনার নতুন কৌশল নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জনগণের ক্ষতি হওয়ার আগেই সরকারকে পরিস্থিতি বুঝে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।
তিনি বলেন, “চব্বিশের একটি স্লোগান আছে—‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে।’ এই প্রজন্মের রক্তে আবার আগুন লাগাবেন না।”
আগামী ২৫ জুলাই সিলেটে অনুষ্ঠেয় সমাবেশের আগেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তা না হলে ঢাকায় মহাসমাবেশ ডাকা হবে। এ জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
একই সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের রায়ের আলোকে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে তারা গণআন্দোলন গড়ে তুলবেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে সেই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে পারে।
সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম ভারতের কথিত আগ্রাসন এবং মুসলমানদের ওপর হামলার নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, “আল্লাহর আদেশ ও নবীর শিক্ষা আমরা অনুসরণ করব। শুভেন্দু ও তার লোকজন যতই লাফালাফি করুক, আমরা ধৈর্য ধরব।”
শেখ হাসিনা ও শুভেন্দু বাংলাদেশে প্রবেশ করলে তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হবে বলেও মন্তব্য করেন অলি আহমদ। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছে এবং দলটি আর কখনো বাংলাদেশে ফিরতে পারবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন