ইসলামাবাদ সমঝোতা পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। গত ৯ দিন ধরে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে রাতে বিমান অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দেশটির সামরিক বাহিনী বর্তমানে যেসব হামলা চালাচ্ছে, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের প্রতিক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান চূড়ান্ত যুদ্ধে যাবে, নাকি যুদ্ধবিরতির জন্য আবার সংলাপে বসবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির। তিনি এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।
রোববার ইরানি সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাত ৯টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত চলা বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরাগচি বলেন, ‘ইরান এখনও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। বর্তমানে আমাদের সামরিক বাহিনী যেসব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান চূড়ান্ত যুদ্ধ ঘোষণা করবে কি না, তা সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।’
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। টানা ৪০ দিন সংঘাত চলার পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে তেহরান ও ওয়াশিংটন।
এর দুই মাসের বেশি সময় পর ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
১৪টি শর্তসংবলিত ওই সমঝোতার একটি শর্ত ছিল, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করবে ইরান। বিনিময়ে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ও দেশটির বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের।
তবে ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে। এর জবাবে ৭ জুলাই থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বোমাবর্ষণ শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
চলমান সংঘাতের মধ্যে ১৩ জুলাই ইরানের বন্দরগুলোতে আবার অবরোধ আরোপের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজিম ঘরিবাবাদি এক বিবৃতিতে ইসলামাবাদ সমঝোতা থেকে সরে আসার পক্ষে মত দেন। পরে শনিবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয় ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা।
সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে আরাগচি বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার কখনও দেখা হয়নি। হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তিরই তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি রয়েছে।’
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন