জাতীয় সম্পদ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে বা বর্তমানে বন্দরে কোনো ধরনের দুর্নীতি কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৫তম কার্যদিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বে-টার্মিনাল বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মন্দা ও কোভিড-১৯ মহামারির মতো কঠিন পরিস্থিতিতেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালিয়ে গেছে।
তিনি জানান, গত দেড় দশকে বন্দরের কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়েছে। ২০১০ সালে বন্দরে সাড়ে চার কোটি টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ১৩ কোটি ৮১ লাখ টন ছাড়িয়েছে। একই সময়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ১৩ লাখ টিইইউএস থেকে বেড়ে ৩৪ লাখ টিইইউএস ছাড়িয়েছে।
এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু, লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ এবং নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা রক্ষার কাজ চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
কাগজবিহীন বন্দর গড়ার উদ্যোগ
চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিক ও হয়রানিমুক্ত করতে ডিজিটালাইজেশনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনলাইন পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, ই-ডেলিভারি অর্ডার, ই-পেমেন্ট এবং স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু রয়েছে। যানবাহনের প্রবেশ সহজ করতে ই-গেট পাস এবং সম্পূর্ণ কাগজবিহীন বন্দর গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষায়িত ডিজিটাল উইন্ডোও চালু করা হয়েছে।
বন্দরের সরঞ্জামসংকট কাটাতে আগামী অর্থবছরের মধ্যে নতুন কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম এবং ভারী ফর্কলিফট সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।
বে-টার্মিনালে বড় জাহাজ ভেড়ানোর পরিকল্পনা
বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি চালু হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
তিনি জানান, বর্তমানে নাব্যতা সংকটের কারণে বড় মাদার ভেসেল সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারে না। বে-টার্মিনাল চালু হলে বড় জাহাজ সরাসরি জেটিতে আসতে পারবে। এতে ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতি বাড়বে।
স্ক্যানার কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের আশ্বাস
ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন বিগত সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের স্ক্যানার মেশিন কেনাকাটায় কয়েক শ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দর জনগণের সম্পদ। অতীতে যাঁরা অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় বন্ধ করে পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম বন্দরে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন