সাভারের আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয়া চারটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সোমবার (১৮ মে) সকালে ঢাকা ইপিজেডের পুরাতন জোনের মূল ফটকের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন এক্টর স্পোর্টিং কারখানার শ্রমিকরা। এতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন বন্ধ হয়ে যাওয়া সাউথ চায়না লিমিটেড, গোল্ডট্রেক্স গার্মেন্টস লিমিটেড এবং গোল্ডট্রেক্স টেক্সটাইল লিমিটেডের শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, গত বছরের শেষ দিকে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ইপিজেড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হলেও কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানি আমাদের কোনো বেতন দেয়নি। তখন ইপিজেড কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছিল, কোম্পানি বেতন না দিলে তারা শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেবে। কিন্তু ডিসেম্বরের ১ তারিখ হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও কেউ কোনো টাকা পায়নি।”
ভুক্তভোগী শ্রমিক গোলাম হোসেন বলেন, “ইপিজেডের কর্মকর্তারা আমাদের বলেছিলেন, কোম্পানি পাওনা পরিশোধ করলে এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের সব টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাইনি। নতুন সরকার গঠনের পরও আমাদের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।”
শ্রমিকরা জানান, তারা শ্রম মন্ত্রণালয়, বেপজা ও বিজিএমইএ বরাবর স্মারকলিপি দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাননি। প্রায় ১০ মাস ধরে তারা পাওনা আদায়ের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন, কিন্তু কার্যকর সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাদের।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারী শ্রমিক সুফিয়া আক্তার বলেন, “বকেয়া টাকা না পেয়ে আমরা খুব অসহায় অবস্থায় আছি। সংসার চালাতে পারছি না। ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার খরচ দিতে কষ্ট হচ্ছে। পাওনা টাকা পেলে অন্তত ধারদেনা শোধ করে ছোটখাটো কিছু করে বাঁচতে পারতাম।”
অন্য শ্রমিকরা বলেন, চাকরি হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাসা ভাড়া, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও দৈনন্দিন ব্যয় চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকেই বয়সের কারণে নতুন করে অন্য কোনো কারখানায় চাকরি পাচ্ছেন না।
দ্রুত বকেয়া বেতন-ভাতা ও পাওনা পরিশোধে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শ্রমিকরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন