চট্টগ্রাম নগরীর নন্দনকানন এলাকায় লোকনাথ মন্দিরের দখল নিয়ে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) কর্মী ও স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৬ জুন) ভোর ৪টার দিকে এ সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রাত প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে ইসকনের একদল লোক লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে তাদের বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় মন্দিরের একটি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া বলেন, মূলত লোকনাথ মন্দির নিয়ে ইসকন ও স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে। একটি কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় কিছু খাসজমি রয়েছে। ওই জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইসকন ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ চলছে।
তাদের দাবি, ইসকন পর্যায়ক্রমে ওই এলাকার জমি ও মন্দির নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মনে করেন, জমি ও মন্দির তাদের নিজস্ব ধর্মীয় সম্পদ। সেখানে বাইরের কোনো সংগঠনের হস্তক্ষেপ তারা মানবেন না।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চট্টগ্রামে এর আগেও ইসকনের বিরুদ্ধে জমি দখল ও মন্দিরের নাম ব্যবহার করে অনুদান সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। প্রবর্তক সংঘ, চট্টগ্রামের নেতাদের অভিযোগ, ইসকন নামধারীরা পেশিশক্তি ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা করছে। যৌথ চুক্তি অমান্য করা ও পাহাড় কেটে প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিবর্তনের অভিযোগও করেন তারা।
সংঘর্ষের পর থেকে নন্দনকানন এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জানিয়েছেন, তারা মন্দির ও ভূসম্পত্তি রক্ষায় সজাগ থাকবেন।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশ দক্ষিণ বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় টহল অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিরোধের স্থায়ী সমাধানেও প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন