সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে পথ ধরে স্বৈরাচার হেঁটেছে, সরকারও সেই পথেই হাঁটছে। জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে কঠোর অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাজশাহীতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনাদের সংস্কার কর্মসূচির প্রথম দফার সঙ্গে আপনারাই গাদ্দারি করছেন। সেখানে লেখা আছে, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সংবিধানের সংস্কার করতে হবে। এখন আপনারা বলছেন, সংবিধান সংস্কার কী তা বোঝেন না। তাহলে না বুঝেই কি প্রথম দফায় সংস্কারের কথা লিখেছিলেন?”
নির্বাচনি ইশতেহারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আপনারা লিখেছিলেন, দেশের কোথাও অনির্বাচিত প্রতিনিধি থাকবে না। অথচ সরকার গঠনের পর ৪২ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসক কি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি? আপনারা নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।”
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন সেই অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে। তার অভিযোগ, অতীতের ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিচার বিভাগকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
গুম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম গুম নির্মূলের জন্য একটি স্বাধীন গুম কমিশন গঠন করা হোক। আপনারা তার বিরোধিতা করছেন। আপনারা স্বাধীন পিএসসিও চান না। যে পথ ধরে স্বৈরাচার চলেছিল, একই পথে আপনারাও হাঁটছেন। এই পথ থেকে ফিরে না এলে স্বৈরাচারের যে পরিণতি হয়েছিল, আপনাদেরও পরিণতি তাই হবে।”
সংসদের মেয়াদ আড়াই মাস উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা চাই, আপনারা ভুল সংশোধন করুন। মনে রাখবেন, আমাদের উদারতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। ভালো কাজ করলে আমরা পানির মতো তরল; কিন্তু মন্দ কাজ করলে, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে আমরা ইস্পাতের চেয়েও কঠিন হয়ে দাঁড়াব। দেশ ও জনগণের কোনো ক্ষতি আমরা মেনে নেব না।”
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে চাঁদাবাজদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির ঘটনা ঘটছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন