সাভারের আশুলিয়া মডেল টাউন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৮ টুকরা কঙ্কালের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভিকটিমের লুণ্ঠিত অটোরিক্সাও উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্র জানায়,গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সাভার মডেল থানাধীন আশুলিয়া মডেল টাউন (আমিন হাউজিং) এলাকায় ৬০ ফিট রাস্তার পাশে কাশবনের ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মাথার খুলিসহ ৩৮ টুকরা কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে পরিধেয় কাপড় দেখে ভিকটিমের মা মোসা. জোসনা বেগম তার নিখোঁজ ছেলে মিলন হোসেনের (১৫) কঙ্কাল হিসেবে শনাক্ত করেন।
নিহত মিলন হোসেন গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ বিকাল ৪টার দিকে অটোরিক্সা নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হয়। এরপর দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডাইরি করা হয়। পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মিলনের মা অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
আদালতের আদেশে ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মামলার তদন্তভার পিবিআই ঢাকা জেলা গ্রহণ করে। পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ, পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দীন, বিপিএম-এর নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাতে সাভারের আক্রান বাজার ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রনি মিয়া (২৪), মো. এরশাদ আলী (৩৪) ও মো. আবুল কালাম (৫২) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে কালিয়াকৈরের একটি গ্যারেজ থেকে ভিকটিম মিলনের লুণ্ঠিত অটোরিক্সা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানা যায়, নগদ টাকার প্রয়োজনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে আসামি সুমন ও রনি মিয়া অটোরিক্সা ভাড়া করে মিলনকে আমিন হাউজিং এলাকার কাশবনে নিয়ে যায়। সেখানে গাঁজা সেবনের একপর্যায়ে তারা মিলনের গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মরদেহ কাশবনে ফেলে রেখে অটোরিক্সা নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে অটোরিক্সাটি একাধিক হাত বদল হয়ে বিক্রি করা হয় এবং রং পরিবর্তন করে গ্যারেজে রাখা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন বলে জানায় পিবিআই।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন