গৃহযুদ্ধ কবলিত মিয়ানমারে রোববার সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বের ভোট গ্রহণ সমাপ্ত । এর মধ্য দিয়ে মোট তিন পর্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচন শেষ হল। জান্তা সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) এগিয়ে আছে।
রয়টার্স লিখেছে, ব্যাপকভাবে সমালোচিত এ নির্বাচনে সামরিক বাহিনী সমর্থিত একটি দল জয়ী হবে আর জান্তা প্রধান একটি রাজনৈতিক ভূমিকা গ্রহণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।। নির্বাচন পর্যবেক্ষক, পশ্চিমা কূটনীতিক এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক জান্তার অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের কড়া সমালোচনা করেছেন।তাঁদের অভিযোগ, সেনাবাহিনী নিজেদের অনুগত দলগুলোর মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন করছে, আর ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন আগের মতোই চলছে।এবারের ভোটে মূলত জান্তা-সমর্থিত দলগুলোকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী-ঘনিষ্ঠ ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এটি মূলত সামরিক শাসনকে নতুন রাজনৈতিক রূপে উপস্থাপনের চেষ্টা।
নির্বাচনের আগের দুই পর্বের ভোট ২৮ ডিসেম্বর ও ১১ জানুয়ারি গ্রহণ করা হয়। এই পর্বগুলোতে ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৫৫ শতাংশের মতো ছিল । মিয়ানমারে ২০২০ ও ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ, সেই তুলনায় এবার ভোটার উপস্থিতি কম। এই পর্বে দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন ও গুরুত্বপূর্ণ শহর মান্দালয়সহ ৬০টি শহরে ভোট গ্রহণ করা হবে। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের মধ্যেই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এটিই দেশটিতে প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন