শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম (৫২) নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সব প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অনুষ্ঠান শুরুর পর সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এতে জামায়াতের অন্তত ৫০ জন সমর্থক আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত পৌনে ১০টার দিকে রেজাউল করিম মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান।
সংঘর্ষের সময় সভামঞ্চের সামনে থাকা কয়েকশ চেয়ার ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উভয় পক্ষ একে অপরকে ধাওয়া করে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করেন, জামায়াত সমর্থকরাই পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং এতে বিএনপির নেতাকর্মীরাও আহত হয়েছেন।
ঝিনাইগাতীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “সব প্রার্থীকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বসা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন