গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে দ্রুতগতিতে রোগ ছড়িয়ে পড়ায় ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, চলমান মানবিক সংকট পরিস্থিতিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যেখানে সংক্রামক রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসরায়েলি হামলার কারণে সৃষ্ট সংকটে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর বসবাসের পরিবেশ মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। এসব আশ্রয়স্থলে দূষিত পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ধস, বর্জ্য জমে থাকা এবং পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব কারণে বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে ইঁদুর, মশা ও বিভিন্ন পরজীবীর বিস্তার। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
সম্ভাব্য মহামারি ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ওষুধ ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা জানিয়েছে, গাজার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চর্মরোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। খোসপাঁচড়া, উকুন, পোকামাকড়জনিত সংক্রমণসহ নানা ধরনের চর্মরোগে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।
সংস্থাটির মতে, এসব রোগ সাধারণ ওষুধে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি তীব্র।
অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে গাজায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ইঁদুর ও পরজীবীজনিত সংক্রমণের ১৭ হাজারের বেশি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। সংস্থাটি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘নৈরাশ্যজনক ও অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছে।
গাজার স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক ক্ষতির কথাও জানানো হয়েছে। সেখানে প্রায় ১৪০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বড় হাসপাতালসহ এক হাজার ৮০০টির বেশি স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজার প্রায় ২৪ লাখ মানুষের মানবিক অবস্থার উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো। খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা, ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী প্রবেশে চলমান বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন