ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে দুই পূজা আয়োজক সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত তিনটার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার দুধ বাজার এলাকার নদীর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে তিনজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং একজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গা বাজারের চালপট্টি হরিমন্দির যুব সংঘ এবং কুমারপট্টি তরুণ সংঘের উদ্যোগে প্রায় ৫০ হাত দূরত্বে দুটি পৃথক পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

পূজা শেষে বুধবার গভীর রাতে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য প্রথমে হরিমন্দির যুব সংঘের সদস্যরা নদীর ঘাটে যান। কিছুক্ষণ পর একই স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দিতে আসেন কুমারপট্টি তরুণ সংঘের সদস্যরা।

এ সময় তরুণ সংঘের সদস্যরা একটি প্রতিমা সড়কের ওপর রাখলে হরিমন্দির যুব সংঘের সভাপতি স্বপন সাহা সেটি সরিয়ে রাখার অনুরোধ করেন।

তখন কুমারপট্টি তরুণ সংঘের সভাপতি সুব্রত রায় প্রতিমাটি সরকারি সড়কে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তা সরাতে আপত্তি জানান।

এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অভিযোগ উঠেছে, কুমারপট্টি তরুণ সংঘের ২০ থেকে ৩০ জন সদস্য লাঠিসোঁটা নিয়ে হরিমন্দির যুব সংঘের লোকজনের ওপর হামলা চালান। এতে সংগঠনটির সভাপতি স্বপন সাহাসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

হরিমন্দির যুব সংঘের সভাপতি স্বপন সাহা অভিযোগ করেন, সামান্য একটি বিষয় নিয়ে তরুণ সংঘের সভাপতি সুব্রত রায়ের নির্দেশে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, হামলায় তিনিসহ তার স্ত্রী, ভাই এবং তাদের পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।

তবে সংঘর্ষের অভিযোগ সম্পর্কে কুমারপট্টি তরুণ সংঘের দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শান্ত করে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।