ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি। তাঁদের মধ্যে মাত্র দুজন দেশে ফিরতে পেরেছেন। এখনো ছয়জন যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন এবং আরও দুজন মস্কোর একটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান।
তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মানব পাচার চক্রের মূল হোতা মিজানসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ভালো বেতনের চাকরি করতে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন ওই বাংলাদেশিরা। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরির পরিবর্তে তাঁদের ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে পাঠানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্র চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তাঁদের রাশিয়ায় নিয়ে যায়। পরে প্রতারণার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করার কাজে বাংলাদেশিদের ব্যবহার করা হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের ড্রোনের নিচে পাঠিয়ে শত্রুপক্ষের অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হতো।
এভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এসআরবি। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধার করার সম্ভাবনাও অত্যন্ত কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, পাচার চক্রের মাধ্যমে রাশিয়ায় যাওয়া ছয় বাংলাদেশি এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দুজন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মাত্র দুজন বাংলাদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতারণার শিকার বাংলাদেশিদের দুর্দশার কথা তুলে ধরতে গিয়ে এসআরবির এক সদস্য আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বিদেশে ভালো বেতনের চাকরির নামে মানব পাচার চক্রের প্রতারণা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার না হন।
চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির ২০ জন নিহত
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
৫ দিন আগে
শেয়ার করুন:

জাতীয়
মতামত(0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন
সংবাদে মতামত প্রকাশ করতে অনুগ্রহ করে নিবন্ধন (Registration) অথবা লগইন করুন।




