ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র ভাগনি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক–কে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোল–এর মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার গুলশান–২ এলাকায় অবৈধভাবে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
এর আগে দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর টিউলিপ সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, গুলশানের ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট গুরুতর অনিয়মের কারণে হস্তান্তরযোগ্য ছিল না। বিষয়টি জানা সত্ত্বেও টিউলিপ সিদ্দিক তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতার প্রভাব এবং তার ভাগনি হওয়ার সুবাদে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)–এর সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তাদের অবৈধভাবে প্রভাবিত করেন। এর মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডকে আমমোক্তার অনুমোদন ও ফ্ল্যাট বিক্রির অনুমোদন করিয়ে নিয়ে তিনি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিনা মূল্যে ফ্ল্যাটটি গ্রহণ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি হলো—ফ্ল্যাট নং বি/২০১, বাড়ি নং ৫এ ও ৫বি (পুরোনো), বর্তমানে ১১এ ও ১১বি (নতুন), রোড নং ৭১, গুলশান, ঢাকা–১২১২।
দুদক আরও জানায়, মামলা দায়েরের আগেই টিউলিপ সিদ্দিক দেশত্যাগ করেন এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ও আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা জরুরি হলেও তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে গ্রেপ্তার করাই একমাত্র উপায়।
উল্লেখ্য, এ মামলার চার্জশিট আমলে নিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি একই আদালত টিউলিপ সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এর আগে, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান–২ এলাকার ফ্ল্যাট অবৈধভাবে গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান এবং সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই ফ্ল্যাটটির দখল নেন এবং পরে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। মামলার পর গত বছরের জুলাই মাসে শাহ খসরুজ্জামান তদন্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হলেও পরে দুদকের পক্ষে কোনো স্থগিতাদেশ বহাল থাকেনি।
তদন্ত শেষে গত ১১ ডিসেম্বর দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৫(ক), ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।
উল্লেখ্য, এর আগে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির পৃথক তিন মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুই বছর করে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছিল।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন