জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতে সীমান্তে বাংলাদেশের মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, অথচ এর কোনো বিচার হয়নি। তিনি বলেন, আমি নিজে ফেলানির বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার বাবা–মায়ের চোখে আমি পানি নয়, রক্ত দেখেছি। আমরা ক্ষমতায় গেলে আর কোনো ফেলানিকে কাঁটাতারে ঝুলে থাকতে হবে না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, কিন্তু কাউকে প্রভু মানব না। কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করব না। সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে এসব ঘটনার বিচার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ জমেছে।
কুড়িগ্রামের ভৌগোলিক বাস্তবতা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, জেলার প্রধান তিনটি নদীই মানুষের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা এলেই নদীপাড়ের মানুষের বসতভিটা ভাঙনের আশঙ্কা শুরু হয়। তিনি অভিযোগ করেন, একটি সুবিধাবাদী শ্রেণি দীর্ঘদিন ধরে নদীগুলোকে ধ্বংস করেছে এবং নদীভাঙন রোধের নামে বরাদ্দ হওয়া বাজেট লুটপাট করেছে। “আমরা ক্ষমতায় এলে ওই দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে জনগণের টাকা উদ্ধার করা হবে,” বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না; আমরা চাই এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। তিনি ঘোষণা দেন, তিস্তাপাড়ের উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয় এবং কেউ বেকার না থাকে।
নারী শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে বিশেষ করে মায়েরা বৈষম্য ও অসম্মানের শিকার হচ্ছেন। সমান কাজ করেও অনেক ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকরা কম মজুরি পান। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কর্মস্থল থেকে আবাসস্থল পর্যন্ত নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে—এটি মায়েদের কাছে আমাদের প্রথম ওয়াদা ।
শহীদদের স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, আবরার ফাহাদ প্রথম শাহাদাত বরণ করেন। তার পথ ধরে আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং সর্বশেষ শরীফ ওসমান হাদিসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন। এই শহীদদের লাশ আজ জাতির ঘাড়ে বোঝা হয়ে আছে। আমরা তাদের রক্তের সঙ্গে কোনো বেঈমানি করব না এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে লড়াই চালিয়ে যাব—ইনশাল্লাহ।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন