সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করা সমাজের সবার দায়িত্ব। এ ধরনের সহিংসতা ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নারী বা পুরুষ—যার ওপরই হোক, নির্যাতন সমানভাবে নিন্দনীয়। দেশে আইনের অভাব নেই; মূল সমস্যা আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সামাজিক মানসিকতায়। নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, আইন, নীতিমালা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি থাকার পরও মামলা দায়ের, তদন্ত ও চিকিৎসা পরীক্ষায় বিলম্ব, পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব এবং সাক্ষী না পাওয়ার কারণে লিঙ্গভিত্তিক ও যৌন সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রচলিত আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, সামাজিক অস্থিতিশীলতা, অন্যায়-অবিচার এবং সংঘবদ্ধ সহিংসতার অপসংস্কৃতির কারণে মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার অবনতি ঘটছে। একই সঙ্গে সমাজে অপরাধপ্রবণতাও বাড়ছে।
তিনি জানান, বিদ্যমান আইন সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার, এর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে রাষ্ট্রের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং তরুণ প্রজন্মকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ।
এ ছাড়া কলামিস্ট মফিদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপপুলিশ কমিশনার মোছা. লিজা বেগম, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ ও অধ্যাপক ড. মেহজাবিন হকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, মানবিক শিক্ষার সূচনা পরিবার থেকে। তাই পরিবারেই শিশুদের নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ের ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করারও সুপারিশ করেন তিনি।
বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ঘটনা নয়, নারী ও শিশুর প্রতি সব ধরনের নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন