নাম শুনলে হাসি পেলেও এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও বার্তা। সমাজিক মাধ্যমে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় আলোচনায় উঠে এসেছে ‘আরশোলা জনতা পার্টি’ বা Cockroach Janata Party। নিজেদের তারা পরিচয় দিচ্ছে “যুবদের দ্বারা, যুবদের জন্য, যুবদের রাজনৈতিক মঞ্চ” হিসেবে। দলের মূলমন্ত্র হিসেবে বলা হয়েছে, “ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক, অলস”।
দল গঠনের পর থেকেই অনলাইনে সদস্য সংগ্রহ শুরু করেছে আরশোলা জনতা পার্টি। তাদের দাবি, ইতোমধ্যে ৪০ হাজার সদস্য যুক্ত হয়েছেন। সমাজমাধ্যমেও দ্রুত বাড়ছে অনুসারীর সংখ্যা।
এই নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ ঘিরে আলোচনায় যুক্ত হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদ। কৃষ্ণনগরের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, তিনি এই দলে যোগ দিতে চান। অন্যদিকে বর্ধমান-দুর্গাপুরের সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদ মজা করে জানতে চান, দলে যোগ দিতে কী যোগ্যতা লাগবে। জবাবে আরশোলা জনতা পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, “১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জেতাই যথেষ্ট।”
অল্প সময়ের মধ্যে দলটির অনুসারী বাড়ায় অনেকেই জানতে চাইছেন, এর পেছনে কারা আছেন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দলটি তৈরি করেছেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি আগে আম আদমি পার্টির সমাজমাধ্যম প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে কাজ করেছেন বলে জানা গেছে।
দলের নাম নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার যুবকদের ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছেন-এমন অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে প্রধান বিচারপতি জানান, তার মন্তব্য ভুলভাবে উদ্ধৃত হয়েছে। ওই ঘটনার ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ‘আরশোলা জনতা পার্টি’ নামটি এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দলটির সমাজমাধ্যম পাতায় ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি গান প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে শোনা যায়, “আমরা আরশোলা পার্টি, জ্বলন্ত শহরের সন্তান।”
তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে ভার্চুয়াল সম্মেলনের ডাক দিয়েছে দলটি। সদস্য হওয়ার শর্ত হিসেবেও ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলা হয়েছে- বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকতে হবে এবং পেশাদারভাবে অভিযোগ করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
তবে শুধু ব্যঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয় দলটির বক্তব্য। পরীক্ষায় দুর্নীতি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া, দলবদল, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংসদে নারীদের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের মতো বিষয়েও তারা সরব হয়েছে।
সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ দলটির ইস্তাহারে তথ্য জানার অধিকার আইন মেনে চলা এবং গোপন অনুদান না নেওয়ার প্রস্তাব দেন। আরশোলা জনতা পার্টি জানিয়েছে, তারা এসব প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
দলটি আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, নাকি সমাজমাধ্যমনির্ভর রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবেই থাকবে-তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মাত্র দুই দিনেই ‘আরশোলা জনতা পার্টি’ নেটদুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
সূত্রঃ দা ওয়াল
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন