বিএনপি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে জনগণের মন ভোলানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, কার্ড দিতে গিয়ে বিএনপির তেল ফুরিয়ে গেছে, জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে। অথচ মন্ত্রীরা সংসদে বলছেন, জ্বালানির কোনো সংকট নেই। তার অভিযোগ, সরকার বাস্তব সমস্যা, অর্থনৈতিক সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি অস্বীকার করছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ইতিহাসে আর কোনো সরকার দুই মাসে এতটা অজনপ্রিয় হয়েছিল কিনা, তা জানা নেই ।‘আমার জানা নেই, যারা মুরুব্বি আছেন তারা বলতে পারবেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে কোনো সরকার এতটা অজনপ্রিয় হয়েছিল কিনা। আমরা জানি না, আগামী ছয় মাসে তাদের কী পরিণতি হবে।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, তারা দেশে কোনো অস্থিতিশীলতা চান না। তাদের দাবি একটাই-গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে প্রকৃত সম্মান জানানো। এই দাবি আদায়ে তারা সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও থাকবেন বলে জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল। দেশের মানুষ প্রতিজ্ঞা করেছিল, দেশে আর কোনো নতুন স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। সেই প্রতিজ্ঞা থেকেই সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি প্রতি পদে সংস্কার কার্যক্রমে বাধা দিয়েছে। পরে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের চাপে তারা গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পর গণভোটকে অস্বীকার করা শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, যে বিএনপির জন্ম হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে, সেই বিএনপি আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী গণভোটকে অস্বীকার করছে। তার ভাষায়, বিএনপি কার্যত নিজের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করতে শুরু করেছে।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো দলীয়করণ শুরু করেছে। বিএনপি যদি দেশকে পুরোনো স্বৈরাচারের পথে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে জনগণ আবারও তাদের প্রতিহত করবে। তরুণ সমাজ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন