বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠী জেএসএসের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে জেএসএসের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি সাবমেশিনগান, ম্যাগাজিন ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পাঁচটার দিকে বান্দরবান–রুমা সড়কের মুরুং বাজার এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এলাকাটি রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের অন্তর্গত হলেও রুমা উপজেলা সদরের কাছাকাছি।
নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, গোলাগুলির পর ঘটনাস্থলে জেএসএস সদস্যের পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার কাছ থেকে ১টি সাবমেশিনগান, ২টি ম্যাগাজিন, ১৪৩টি গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পরে তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক জানান, নিরাপত্তা বাহিনী একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে সড়কে গাড়ি থামিয়ে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি চাঁদাবাজি করছিল। এ সময় বান্দরবান থেকে রুমার দিকে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি টহল দল সেখানে পৌঁছালে সশস্ত্র ব্যক্তিরা প্রথমে গুলি চালায়। পরে পাল্টা গুলিতে একজন আহত হন, যিনি পরবর্তীতে মারা যান।
রোয়াংছড়ি থানা সূত্রে জানানো হয়, পাহাড়ি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরুং বাজার এলাকায় জেএসএস-এর একটি সশস্ত্র দলের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সেনা টহল দল অবৈধ চাঁদা আদায়রত সশস্ত্র সদস্যদের শনাক্ত করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পালানোর চেষ্টার সময় জেএসএস সদস্যরা সেনা টহল দলের ওপর গুলিবর্ষণ করলে সেনারা পাল্টা গুলি চালিয়ে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তারা একটি স্কুলঘরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পরে পালিয়ে যায়। অভিযানে ইউনিফর্ম পরিহিত হ্লামংনু মার্মা নামের এক জেএসএস সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ১টি সাবমেশিনগান, এসএমজির ১৪৩টি গুলি, পিস্তলের ১৪টি গুলিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন